বিরাট কোহলির বিদায় ,ভারতের ব্যাটিংয়ে শূন্যতা :2027 বিশ্বকাপে নতুন আতঙ্ক !

শূন্য রানে ফেরার পর বিরাট কোহলির বিদায় নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে । অ্যাডিলেডে কি শেষবার দর্শকদের বিদায় জানালেন কিং কোহলি ?

বিরাট কোহলির বিদায়:শূন্য রানের হতাশা ,আবেগে ভাসল অ্যাডিলেড

বিরাট কোহলির বিদায় মুহূর্তটি দর্শকদের মনে সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে । যদিও ক্রিকেট দুনিয়া তার এ স্কোর বোর্ডটি মনে রাখবে না , ভুলে যাবে তার এই শূন্য রানের কথা । কিন্তু বিরাটের এই বিদায়ের মুহূর্ত টি সারাজীবন হয়ে থাকবে আবেগ,গর্ব এবং বেদনার মিশ্রণে । একদম অনাকাঙ্খিত ভাবে অ্যাডিলেড এ ভারতীয় ক্রিকেট ম্যাচটির সমাপ্তি ঘটলো, যা ক্রিকেট ইতিহাসে স্বরণীও অধ্যায় হয়ে থাকবে। পরস্পর দুই ম্যাচে এইভাবে শূন্য রানে আউট হয়ে যাবে কিং কোহলি ,এটা তার হতাশার মুহূর্ত হয়ে থাকবে। কিন্তু তবুও ভালোবাসায় গর্জে উঠল অ্যাডিলেডের দর্শক আসন।

দুই ম্যাচেই শূন্য রান: অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত

বিরাট কোহলি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে, জেভিয়ার বার্টলেটের ইনসুইং ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছেড়ে দেন। আগের দিনে ম্যাচে পার্থে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে গিয়ে শূন্য রানে ফিরে আসে। 20০৮ সালে খেলার অভিষেক ঘটে বিরাট কোহলির । অবিষেক হওয়ার পর এই প্রথমবার ওয়ানডে ক্রিকেট ম্যাচ এ কোহলি শূন্য রানে আউট হলেন। স্কোর বোর্ড এ হতাশার পর্দা টানা হলো ,কিন্তু বিরাট কোহলির বিদায় এই ভাবে হতে পারে না ,হওয়ার কথা ও নয়।

কোহলি আউটের পর নিরব স্টেডিয়াম

বিরাট কোহলি আউট ঘোষণা হওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো মাঠ থমকে দাড়িয়ে পড়ল। আম্পায়ারের আঙ্গুলের ইশারা তুলার সাথে সাথেই কোহলির মধ্যে এক তীব্র যন্ত্রনা ও এক অবিশ্বাসের চিত্র ফুটে উঠল। ক্রিকেট প্রেমীরা জানতেন এই মুহূর্তের জন্য কোহলি কতটা জেদি এবং কেমন লড়াই করতে পারেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই মুহুর্তে ভাগ্য ও তার হাত ছেড়ে দিল । বলটি সরাসরি স্টাম্পে গিয়ে লেগেছে ,এটা বুঝতে পেরে কোহলি নিজের হার মেনে নিতে হলো।

যখন গর্ব হেটে যায়, আর বিদায়ও দাড়িয়ে সম্মান পায়

এমন এক অনাকাংক্ষিত পরাজয়ের মুহূর্তের মধ্যে ও যেন এক বড় মহত্ব লুকিয়ে থাকে।আউট হয়ে যাওয়ার পরে প্যাভিলিয়ঁনের দিকে ধীরে ধীরে হাটতে থাকা কোহলীকে দেখে অ্যাডিলেডে থাকা দর্শকরা সুন্দরভাবে করতালি দিতে থাকেন । সেই মুহূর্তটি ছিল সম্মান এবং আবেগের। অ্যাডিলেডে দাড়িয়ে থাকা সমস্ত দর্শকদের চোখের সামনে একটাই দৃশ্য ভাসছিল সেটা হলো বিরাট কোহলির বিদায় এর মুহূর্ত। প্রতিটি করতালির মাধ্যমে দর্শকরা জানাচ্ছিল “তুমি যা দিয়েছ ভারত এবং ক্রিকেটকে সেটা কোনদিনই ভুলতে পারবোনাক্রিকেট জগত।

অ্যাডিলেড – যে শহর কোহলির প্রেম আর বিদায়ের সাক্ষী”

অস্ট্রেলিয়ার এই অ্যাডিলেড শহরের এই মাঠে কোহলি তার ক্রিকেট জীবনে অনেক ইনিংস খেলেছেন। এর মধ্যে অনেক স্মরণীয় ইনিংস রয়েছে। এই মাঠেই তিনি রানের পাহাড় বানিয়েছিলেন। অ্যাডিলেড ওভালে কোহলি তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটান ৯৭৬ রান দিয়ে । সেই রেকর্ডই তার বিদায়ের সাক্ষী হয়ে থাকলো। ইতিহাসে গড়া বিরাট কোহলির বিদায় যেন সবার মনে জায়গা করে নিলো,যদিও দর্শনে ছিল তীব্র আবেগময়।

দলের ভরসা ,যুগের প্রতীক

বিরাট কোহলি শুধু একজন ভাল ব্যাটম্যানই ছিলেন না ,দলের মধ্যে এক অন্যতম বিশ্বাসী ব্যক্তি ও ছিলেন ।মাঠে যখন তিনি খেলতে নামতেন বিপরীত পক্ষের মনে ভয়ের সঞ্চার ঘটতো আর তার নিজের দলের মনে আসতো অদম্য সাহস। ভারতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যে একটা নতুন চরিত্রকে খুজে পেয়েছিলেন। আর বিরাট কোহলির বিদায় মনে সেই চরিত্রটির শেষ অবসান। নতুনদের হতে ব্যাট উঠবে ঠিকই কোহলির মতো ব্যাটসম্যানকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

অধ্যায় শূন্য হলেও, গল্পে পূর্ণতা পেয়েছে

ক্রিকেট জগতে সবসময় একটি পরিকল্পনার উপর চলে না। হয়তো বিরাটের এই শেষ ইনিংস টি শূন্য রানে শেষ হয়েছে কিন্তু হাসিটা থেমে গেছে হতাশায় স্কোরবোর্ডে লেখা রয়েছে। কোহলি নিজেই তার এই গল্প লিখে গেছেন যা ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায় গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম অধ্যায়। তাই বিরাট কোহলির বিদায় শুধুই একটি উইকেট পতন নয় এটি একটি যুগের অবসান।

শেষ করতালির প্রতিধ্বনি থাকবে চিরকাল

দর্শকদের হাততালি শুধু একটি দিনের জন্য ছিল না। সেটি আগামী প্রজন্মের প্রত্যেকের কানেও এই ধ্বনিটি বেজে উঠবে। একজন ক্রিকেটার মহানায়ক কে সব দর্শকরা যেভাবে বুকে ধরে রেখেছে সেটাই প্রমাণ করে দিল কোহলির প্রভাব কতটা। ২২ গজের সীমানা পেরিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন কোটি মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসা।

শেষ কথায়

বিরাট কোহলির বিদায় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক আবেগপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। রেকর্ড বলবে তিনি বীর দর্শক বলবে তিনি কিংবদন্তি। হতাশায় ভালোবাসায় হবে তার শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

ক্রিকেট বলবে,

“শেষটা যেমন হোক, তুমি ছিলে আমাদের কাছে সেরা”।

Leave a Comment

সূচিপত্র