নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে: 5টি বড় পরিবর্তন এসেছে যা ভারতের প্রশাসন, নীতি ও কল্যাণমূলক প্রকল্পকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। সেই সময় থেকেই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক কাঠামোকেই বদলে দেয়নি, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। তিনি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে শাসন হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি একটি ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন যে, ভারতের প্রশাসনে অসংখ্য বিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্ব ও বিভাজন বিদ্যমান। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছিল যে, শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং ঐক্যবদ্ধ ভিশন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব-এর প্রথম দিক থেকেই জোর দেওয়া হয়েছিল সমন্বিত প্রশাসন, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকরী বাস্তবায়নের উপর।

প্রশাসন এবং নীতিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি

নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব-এ প্রশাসনের কাঠামোতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তিনি নতুন আইন প্রণয়ন, ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইন বাতিল এবং বিদেশ নীতির পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ভারতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও বামপন্থী চরমপন্থার বিরুদ্ধে কৌশলগত পদক্ষেপ তাঁর শাসনের বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে কল্যাণমূলক প্রকল্প, স্বচ্ছ ভারত মিশন, উজ্জ্বলা যোজনা কিংবা জনধন যোজনার মতো উদ্যোগ দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।

সরাসরি জনগণের সাথে যোগাযোগ

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের নতুন এক ধারা শুরু করেছে। তিনি প্রচলিত মধ্যস্থতার প্রথা ভেঙে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছেছেন। তাঁর রেডিও প্রোগ্রাম মন কি বাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সরাসরি সংলাপ তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

দলের ভেতরে সংস্কার

২০১৪ সালের পর শুধু সরকার নয়, দলীয় কাঠামোতেও দ্রুত পরিবর্তন আনা হয়। বিজেপির ক্যাডারদের স্বচ্ছ ভারত মিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়। কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জনগণের কাছে পৌঁছাতে এবং নতুন রাজ্যগুলোতেও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে। এর ফলে একসময় যেখানে বিজেপি বহিরাগত হিসেবে বিবেচিত হতো, আজ সেখানে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে

বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত

দলের সভাপতি জেপি নাড্ডা সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বিজেপি। আজ এনডিএ সরকারের নেতৃত্বে ২০টি রাজ্য, প্রায় ১৪ কোটি সদস্য এবং শত শত সাংসদ ও বিধায়ক রয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব-এর। তাঁর ভিশন, কর্মদক্ষতা এবং দলীয় কর্মীদের প্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতা বিজেপিকে আন্তর্জাতিকভাবে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিদেশ নীতি ও আন্তর্জাতিক কৌশল পুনর্নির্মাণ

বিদেশ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

উপসংহার

২০১৪ সালের পর থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রে যে পরিবর্তন এসেছে, তার মূল চালিকাশক্তি নিঃসন্দেহে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব। তিনি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন, বরং একজন রূপান্তরমূলক নেতা, যিনি প্রশাসন, বিদেশ নীতি, কল্যাণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আগামী দিনের ভারতকে কোথায় নিয়ে যাবেন, তা নিয়ে সবারই কৌতূহল রয়েছে, তবে এ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে ভারতের যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে

Leave a Comment

সূচিপত্র